আজকাল প্রায় কলকাতা সহ সব বড় শহরের চারপাশে বিশাল আকারের নতুন পাহাড় দেখা যায়। এই পাহাড়ের মতো উঁচু জায়গাগুলি ভর্তি প্লাস্টিকে। গোটা দেশ এই বিশাল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে কী করবে তা ভেবে নাজেহাল অনেকেই। তবে এই প্লাস্টিক ব্যবহারের এক দারুণ সুযোগ এসেছে। 2006 সালে থিয়াগারাজার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ডিন, আর ভাসুদেভান এক নতুন প্রযুক্তি সামনে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি বলেছিলেন প্লাস্টিক আর বিটুমিন এই দুই পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্ট। যা অ্যাসফাল্টের সাথে মিশে শক্ত জোড় তৈরি করতে পারে। এই পদ্ধতিতে তৈরি রাস্তা একদিকে যেমন টেকশই হবে অন্যদিকে অনেক বেশি ভার বহন করতে পারবে। 13 বছর পরে দেশের একাধিক শহরে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করে রাস্তা তৈরি শুরু হল।

গোটা দেশে প্রতিদিন গড়ে 15,000 টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হচ্ছে
কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড জানিয়েছে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি রাস্তা আগের থেকে কম খারাপ হচ্ছে। নিয়মিত ভারি গাড়ি চলার চার বছর পরেও প্লাস্টিকে তৈরি রাস্তায় কোন ক্ষতি হয়নি। ডঃ ভাসুদেভান জানিয়েছেন এক টন প্লাস্টিকের সাথে নয় টন বিটুমিন মিশিয়ে এক কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করা সম্ভব। এর ফলে এক কিলো বিটুমিনের খরচ বেঁচে যাবে। এক কিলোগ্রাম বিটুমিনের দাম প্রায় 50,000 টাকা। প্লাস্টিক ব্যবহার করে তৈরি রাস্তায় জলে কম ক্ষতি হয়। ফলে নতুন এই পদ্ধতিতে তৈরি রাস্তার আয়ু বেশি হচ্ছে। নতুন এই প্রযুক্তি একদিকে যেমন রাস্তা তৈরির খরচ কমাচ্ছে অন্যদিকে রাস্তা টেকসই হচ্ছে প্লাস্টিক ব্যবহারে।
গোটা দেশে প্রতিদিন গড়ে 15,000 টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে 9,000 টন প্লাস্টিক বর্জ্য পুনরায় ব্যবহার হয়। এই বিশাল পরিমাণ প্লাস্টিক ব্যবহারের সমাধান নিয়ে এসেছে ডঃ ভাসুদেভানের তৈরি প্রযুক্তি। 2015 সালে রাস্তা তৈরিতে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার আবশ্যিক করেছে কেন্দ্র। দেশের সব রাস্তা তৈরির সময় অন্তত 6 থেকে 8 শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার হচ্ছে। যা দেশের প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় বড় ভূমিকা নিচ্ছে।
দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, পুনে সব দেশের সব বড় শহরে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করে রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। 2018 সালে গোটা দেশে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করে 1 লক্ষ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি কাজ শেষ হয়েছিল।
অটো সংক্রান্ত সাম্প্রতিক খবর আর রিভিউস জানতে, লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube.









